সব এককে ১ V
উপরের কনভার্টারের সাথে মানগুলো বদলায়। বিস্তারিত পাতা খুলতে একটি সারি বেছে নিন।
- কিলোভোল্ট০.০০১ kV
- অ্যাম্পিয়ার— A
- মিলিঅ্যাম্পিয়ার— mA
- মিলিভোল্ট১,০০০ mV
- কিলোঅ্যাম্পিয়ার— kA
জনপ্রিয় রূপান্তর
4 জোড়াভোল্ট ↔ কিলোভোল্ট
V ↔ kV
অ্যাম্পিয়ার ↔ মিলিঅ্যাম্পিয়ার
A ↔ mA
ভোল্ট ↔ মিলিভোল্ট
V ↔ mV
অ্যাম্পিয়ার ↔ কিলোঅ্যাম্পিয়ার
A ↔ kA
একক অভিধান
6 একক- ভোল্ট V
- ভোল্ট হলো বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্যের SI মৌলিক একক।
- আলেসান্দ্রো ভোল্টার নামে নামকরণ করা এই একক আধুনিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
- ব্যবহার: গৃহস্থালি বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স এবং ব্যাটারি স্পেসিফিকেশন
- অ্যাম্পিয়ার A
- অ্যাম্পিয়ার হলো তড়িৎ প্রবাহের SI মৌলিক একক।
- আঁদ্রে-মারি আম্পেয়ারের নামে নামকরণ করা এই একক তড়িৎ প্রকৌশলের একটি মৌলিক ভিত্তি।
- ব্যবহার: বৈদ্যুতিক বর্তনী, ফিউজ রেটিং এবং ইলেকট্রনিক্স
- কিলোভোল্ট kV
- কিলোভোল্ট ১০০০ ভোল্টের সমান, উচ্চ বিভব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডে উচ্চ বিভব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
- ব্যবহার: বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড, উচ্চ বিভব যন্ত্রপাতি
- মিলিঅ্যাম্পিয়ার mA
- মিলিঅ্যাম্পিয়ার অ্যাম্পিয়ারের হাজার ভাগের এক ভাগের সমান, ছোট প্রবাহ পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।
- ইলেকট্রনিক্স, সেন্সর ও নির্ভুল যন্ত্রপাতির বিকাশের সাথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- ব্যবহার: ইলেকট্রনিক্স, সেন্সর, ছোট প্রবাহ পরিমাপ
- মিলিভোল্ট mV
- মিলিভোল্ট ভোল্টের হাজার ভাগের এক ভাগের সমান, ছোট বিভব মান প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
- ইলেকট্রনিক্স ও নির্ভুল যন্ত্রপাতির বিকাশের সাথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- ব্যবহার: ইলেকট্রনিক্স, সেন্সর, নিম্ন বিভব পরিমাপ
- কিলোঅ্যাম্পিয়ার kA
- কিলোঅ্যাম্পিয়ার ১০০০ অ্যাম্পিয়ারের সমান, শর্ট সার্কিট ও বজ্রপাতের মতো বড় প্রবাহ পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ও বড় শিল্প বৈদ্যুতিক স্থাপনায় ব্যবহারিক মানদণ্ড হয়ে উঠেছে।
- ব্যবহার: শর্ট সার্কিট হিসাব, বিদ্যুৎ বিতরণ যন্ত্রপাতি
বিদ্যুৎ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
বিদ্যুৎ একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র যা বিভব (বিভব পার্থক্য) ও প্রবাহ (আধান প্রবাহ)-এর মতো পরস্পর সম্পর্কিত কিন্তু ভিন্ন ভৌত রাশি নিয়ে গঠিত। এই বিভাগ দৈনন্দিন বৈদ্যুতিক কাজে সবচেয়ে বেশি দেখা দুটি মৌলিক রাশি -- ভোল্ট (বিভব) ও অ্যাম্পিয়ার (প্রবাহ) -- একত্র করে।
বিভব ও প্রবাহ একই ভৌত রাশি নয় এবং সরাসরি একে অপরে রূপান্তর করা যায় না; এদের মধ্যকার সম্পর্ক ওহমের সূত্র (V = I × R) দিয়ে, বর্তনীর রোধের ওপর নির্ভর করে স্থাপিত হয়। এই পাতার রূপান্তরগুলো প্রতিটি রাশিকে নিজের মধ্যে (ভোল্ট-কিলোভোল্ট, অ্যাম্পিয়ার-মিলিঅ্যাম্পিয়ারের মতো) আলাদাভাবে বিবেচনা করে।
- বিভব এককের নাম
- ভোল্ট (অ্যালেসান্দ্রো ভোল্টার সম্মানে)
- প্রবাহ এককের নাম
- অ্যাম্পিয়ার (আঁদ্রে-মারি অ্যাম্পিয়ারের সম্মানে)
- SI মৌলিক একক (প্রবাহ)
- অ্যাম্পিয়ার (A) -- SI-এর ৭টি মৌলিক এককের একটি
- বিভব-প্রবাহ-রোধ সম্পর্ক
- ওহমের সূত্র: V = I × R
- বাংলাদেশে গ্রিড বিভব
- ২২০ V (একক ফেজ), ৪০০ V (তিন ফেজ)
বিভব (ভোল্ট) কী?
বিভব (ভোল্টেজ) একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীর দুটি বিন্দুর মধ্যকার বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য প্রকাশ করে এবং একে ইলেকট্রনকে এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে প্রবাহিত করার 'চালিকাশক্তি' হিসেবে ভাবা যায়। SI একক ভোল্ট (V)।
ভোল্ট একক বৈদ্যুতিক ব্যাটারির আবিষ্কারক ইতালীয় পদার্থবিদ অ্যালেসান্দ্রো ভোল্টার সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে। একটি ব্যাটারিতে লেখা '১.৫ V' বা '৯ V'-এর মতো মান সেই ব্যাটারির প্রদানযোগ্য বিভব পার্থক্য প্রকাশ করে।
প্রবাহ (অ্যাম্পিয়ার) কী?
তড়িৎ প্রবাহ একটি পরিবাহী দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ তড়িৎ আধান যায় তা প্রকাশ করে এবং SI একক অ্যাম্পিয়ার (A)। এক অ্যাম্পিয়ার প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬.২৪২ × ১০¹⁸ ইলেকট্রন একটি বিন্দু দিয়ে যাওয়ার সমান।
অ্যাম্পিয়ার একক তড়িৎচুম্বকত্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফরাসি পদার্থবিদ আঁদ্রে-মারি অ্যাম্পিয়ারের সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের SI সংশোধনের আগে অ্যাম্পিয়ার SI-এর মৌলিক এককগুলোর একটি ছিল; আজও এটি মৌলিক রাশি হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে, তবে এখন মৌলিক আধান ধ্রুবকের (e) ওপর ভিত্তি করে সংজ্ঞায়িত।
বিভব ও প্রবাহ কেন একে অপরে রূপান্তর করা যায় না?
বিভব (V) ও প্রবাহ (A) ভিন্ন ভৌত রাশি -- একটি বিভব পার্থক্য, অন্যটি আধান প্রবাহের হার প্রকাশ করে। তাই 'X ভোল্ট কত অ্যাম্পিয়ার হয়' প্রশ্নের একা কোনো উত্তর নেই, যদি না বর্তনীর রোধ (বা ক্ষমতা) জানা থাকে।
দুটির মধ্যকার সম্পর্ক ওহমের সূত্র দিয়ে স্থাপিত হয়: V = I × R (বিভব = প্রবাহ × রোধ)। যেমন ১২ ভোল্ট বিভব ৪ ওহম রোধের মধ্য দিয়ে গেলে ৩ অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ তৈরি করে; কিন্তু একই ১২ ভোল্ট ভিন্ন রোধে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রবাহ মান তৈরি করে।
ক্ষমতা, বিভব ও প্রবাহের সম্পর্ক
বৈদ্যুতিক ক্ষমতা (ওয়াট) বিভব ও প্রবাহের গুণফলের সমান: P = V × I। এই সূত্র দেখায় যে একই ক্ষমতার একটি যন্ত্র উচ্চ বিভবে কম প্রবাহ, নিম্ন বিভবে বেশি প্রবাহ টানবে।
এই সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে কেন বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড উচ্চ বিভবে কাজ করে: একই ক্ষমতা কম প্রবাহে বহন করা সঞ্চালন লাইনের রোধজনিত শক্তি ক্ষয় (জুল তাপ) উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
বাংলাদেশ ও বিশ্বে গ্রিড বিভব
বাংলাদেশে আবাসিক স্থাপনায় মানক গ্রিড বিভব একক ফেজের জন্য ২২০ ভোল্ট, আর শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যবহৃত তিন ফেজ ব্যবস্থার জন্য ৪০০ ভোল্ট (৫০ Hz কম্পাঙ্কে)।
বিশ্বজুড়ে গ্রিড বিভব দেশভেদে পরিবর্তিত হয়; যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশ ১২০ ভোল্ট ব্যবহার করে, আর বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রায় ২২০-২৩০ ভোল্ট পছন্দ করে। এই পার্থক্যই বিদেশ থেকে আনা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি রূপান্তরকারী ছাড়া সরাসরি ব্যবহার করা যায় না তার প্রধান কারণ।
সরাসরি প্রবাহ (DC) ও পরিবর্তী প্রবাহ (AC)
সরাসরি প্রবাহে (DC) ইলেকট্রন একই দিকে স্থিরভাবে প্রবাহিত হয় -- ব্যাটারি ও সৌর প্যানেল DC উৎপন্ন করে। পরিবর্তী প্রবাহে (AC) প্রবাহের দিক প্রতি সেকেন্ডে একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে (বাংলাদেশে ৫০ Hz, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার) উল্টে যায় -- গ্রিড বিদ্যুৎ AC।
গ্রিড বিতরণে AC পছন্দ করার প্রধান কারণ হলো ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিভব সহজে বাড়ানো বা কমানো যায়; এটি বিদ্যুৎকে দীর্ঘ দূরত্বে কম ক্ষয়ে পরিবহন সম্ভব করে।
মানবদেহে তড়িৎ প্রবাহের প্রভাব
মানবদেহের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রবাহের পরিমাণ অনুভূত প্রভাব নির্ধারণ করে: প্রায় ১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার প্রবাহ সামান্য অনুভূত হয়, ১০-২০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার পেশি সংকোচন (হাত ছাড়তে না পারা) এবং ১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বেশি হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম (ফিব্রিলেশন) ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
তাই বৈদ্যুতিক নিরাপত্তায় শুধু বিভব নয়, বর্তনীতে তৈরি হতে পারা প্রবাহের পরিমাণও নির্ধারক -- এমনকি কম বিভবের কিন্তু কম রোধের (যেমন ভেজা) পরিবেশেও বিপজ্জনক মাত্রার প্রবাহ তৈরি হতে পারে।
একক তুলনা টেবিল
| একক | প্রতীক | SI সমতুল্য | পদ্ধতি | সাধারণ ব্যবহার |
|---|---|---|---|---|
| মিলিভোল্ট | mV | ০.০০১ V | SI/মেট্রিক | সেন্সর ও বায়োইলেকট্রিক সংকেত |
| ভোল্ট | V | ১ V | SI | ব্যাটারি, গ্রিড ও বর্তনী বিভব |
| কিলোভোল্ট | kV | ১০০০ V | SI/মেট্রিক | উচ্চ বিভব সঞ্চালন লাইন |
| মিলিঅ্যাম্পিয়ার | mA | ০.০০১ A | SI/মেট্রিক | ইলেকট্রনিক বর্তনীর প্রবাহ |
| অ্যাম্পিয়ার | A | ১ A | SI | গৃহস্থালি স্থাপনা ও যন্ত্রের প্রবাহ |
| কিলোঅ্যাম্পিয়ার | kA | ১০০০ A | SI/মেট্রিক | শর্ট সার্কিট ও শিল্প প্রবাহ |
সূত্রসমূহ
এই পাতার সংজ্ঞা ও রূপান্তর মান স্বীকৃত মেট্রোলজি রেফারেন্সের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।